তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, একজন মমতাময় অভিভাবক। তিনি শুধু দপ্তরে বসে ফাইল নাড়েন না, সমাজের গভীরে গিয়ে বদলে দেন দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)জনাব রিনাত ফৌজিয়া যিনি এবার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের কিশোরীদের জন্য দেখালেন রাষ্ট্রকর্তৃক নারীর প্রতি সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুন), তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। এতে অংশ নেয় এলাকার দুটি স্কুল ও একটি কলেজের শতাধিক ছাত্রী।
উদ্দেশ্য ছিল একটিই—কিশোরীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
প্রধান অতিথির আসনে থেকে ইউএনও রিনাত ফৌজিয়া আবেগভরা কণ্ঠে বলেন—একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য দরকার সুস্থ মা। অথচ এখনও আমাদের অনেক মেয়ে ও নারী অস্বাস্থ্যকর স্যানিটারি ব্যবহারের কারণে জরায়ু ক্যান্সারসহ ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমি চাই, তোমরা সাহসী হও। নিজের শরীরের যত্ন নাও। মনে রেখো, তোমাদের সুস্বাস্থ্যই আমাদের জাতীয় শক্তি।
তার বক্তব্যে শুধু দিকনির্দেশনা ছিল না, ছিল মাতৃস্নেহ, ছিল আত্মবিশ্বাস গড়ার আহ্বান।
অনুষ্ঠানে ছাত্রীরা পেয়েছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন—‘টোকেন অব রেসপেক্ট’ হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল এক সম্মানজনক স্বীকৃতি—নিজেকে মূল্যবান ভাবার, নিজের যত্ন নেওয়ার।
একজন ছাত্রী বলেন, ইউএনও ম্যাম আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে যখন বললেন ‘তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ কান্ডারি’, তখন মনে হলো—হ্যাঁ, আমরা গর্ব করে বাঁচতে পারি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনেকে বলেন, রিনাত ফৌজিয়ার মতো একজন ইউএনও কেরানীগঞ্জের জন্য সৌভাগ্য। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়িয়ে একজন সমাজ-পরিবর্তকের ভূমিকায় কাজ করছেন।
স্থানীয় এক নারী অভিভাবক আবেগভরে বলেন, আমার মেয়ে আগে এসব নিয়ে লজ্জা পেত। আজ সে নিজেই বলেছে, মা, আমার স্বাস্থ্য আমার অধিকার। এতটুকু পরিবর্তন এনে দিয়েছেন ম্যাডাম।
অনুষ্ঠান শেষে ইউএনও রিনাত ফৌজিয়া ঘোষণা দেন, এই উদ্যোগ একদিনের জন্য নয়। আমরা ধারাবাহিকভাবে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সচেতনতা এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে কাজ করে যাবো। প্রতিটি মেয়ে জানবে—সে এই সমাজের গর্ব,সে অমূল্য।
কেরানীগঞ্জের প্রশাসনের রুটিন কার্যক্রমের মাঝেও রিনাত ফৌজিয়ার এই মানবিক উদাহরণ জানিয়ে দিল—যেখানে দায়িত্বের সঙ্গে ভালোবাসা মিশে যায়, সেখানেই বদলে যায় সমাজ। এই কর্মসূচি কেবল ন্যাপকিন বিতরণ নয়, এটি ছিল আত্মবিশ্বাস বিতরণের এক মহৎ প্রয়াস।