কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আটি ভাওয়াল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ হিসেবে সুনাম ধরে রেখেছে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখা চালু করে এবং প্রথম বছর থেকেই শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কেরানীগঞ্জে নিজেদের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই কলেজটি বর্তমানে অবকাঠামো, শিক্ষক মান ও পরিবেশের দিক থেকে উন্নত হলেও শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে।
আটি ভাওয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধারণক্ষমতা ৫০০ জন হলেও বর্তমানে ভর্তি আছে মাত্র ২৫০ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষকরা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষিত, শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর, তবু শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে না। স্থানীয়দের মতে, পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব, অভিভাবকদের অনীহা এবং অন্যান্য কলেজের সাথে প্রতিযোগিতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থী সংকট নিরসন এবং কলেজের উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে গত ১২ আগস্ট সোমবার নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান সুমনের আহ্বানে কলেজটির অধ্যক্ষের কক্ষে এলাকার শিক্ষানুরাগীদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আটি ভাওয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী, সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুকী, সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনির, শ্যামলাপুর স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী নুরুল মমিন,শিক্ষানুরাগী ওয়াশি উদ্দিন আহমেদ, কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ ইমরুল কায়েস, সাবেক এডহক কমিটির সদস্য মহসিন আলী, এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ ইউসুফ আলী, প্রবাসী শিক্ষার্থী আবুল কাশেম মামুন
এছাড়াও এলাকার অন্যান্য শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল ইসলাম কলেজের অতীত সাফল্য তুলে ধরে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা দক্ষ, পরিবেশ উন্নত, ফলাফল চমৎকার। তবুও শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। সবাই এগিয়ে এলে এই সংকট কাটানো সম্ভব।
কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুকী বলেন, আমি সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের পাশে ছিলাম। রাজনৈতিক কারণে ডাকা হয়নি। তবে এখন যে কোনো প্রয়োজনে আমি সহযোগিতা করব।
প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, এতদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো ব্যক্তিগতভাবে। ফলে দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গুণগত উন্নয়ন হয়নি। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই কলেজকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সাংবাদিক মোঃ ইমরুল কায়েস বলেন,কলেজের উন্নত শিক্ষার পরিবেশের বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এই কলেজে আগ্রহী করে তুলতে হবে।
মহসিন আলী বলেন, প্রতিটি গ্রামে গিয়ে অভিভাবকদের বোঝাতে হবে যাতে তারা সন্তানদের ভর্তি করান।
ইতালী প্রবাসী আবুল কাশেম মামুন বলেন, আমরা প্রবাসীরা কলেজের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কীভাবে অবদান রাখতে পারি, তা আমাদের জানান।
মনিরুল হক মনির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,একদিন এই কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে।
নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান সুমন বলেন, আমি নিজে মার্কেটিংয়ের মানুষ। কিভাবে সফল প্রচারণা চালাতে হয় তা জানি। আমাদের বিজ্ঞান বিভাগের যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু আলাদা ল্যাব নেই। সবার সহযোগিতায় পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ল্যাব এবং একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব করতে চাই। কেরানীগঞ্জের সেরা কলেজে রূপান্তর করতে না পারলেও রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করব।
তিনি আরও বলেন, ত্রুটি চোখে পড়লে সরাসরি আমাকে বা অধ্যক্ষকে জানাবেন, আমরা দ্রুত সমাধান করব। নিয়মিত কলেজে এসে সকলে তদারকি করলে অল্প সময়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
দীর্ঘ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাওয়া আটি ভাওয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আজ শিক্ষার্থী সংকটের মুখোমুখি। কিন্তু এলাকার শিক্ষানুরাগী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রবাসী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট কাটিয়ে উঠবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
প্রচারণা বৃদ্ধি, অভিভাবক সচেতনতা এবং আধুনিক ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে কলেজটির গুণগত মান আরও উন্নত হবে। একদিন হয়তো কেরানীগঞ্জের সেরা কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা লাইন ধরবে এই বিশ্বাসই সভায় উপস্থিত সবার।