পচা নারীভুঁড়ি ব্যবহার করে আফ্রিকান মাগুর মাছ চাষের অভিযোগে কেরানীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই খামার মালিককে শাস্তি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সালাম চেয়ারম্যান রোড এলাকার দুটি খামারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিনাত ফৌজিয়া।
অভিযানে ইব্রাহীম (৩৮)-কে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক খামার মালিক সুমন রাজবংশী (৩৫)-কে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সুমন রাজবংশী জরিমানা পরিশোধ করায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রিনাত ফৌজিয়া সাংবাদিকদের জানান, পচা নারীভুঁড়ি দিয়ে মাছ চাষ করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। এই বিষাক্ত খাবারে উৎপাদিত মাছ মানুষের খাদ্যচক্রে ঢুকে ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। এমনকি শিশুরাও এসব মাছ খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২০-এর ৩২(২) ধারা, পেনাল কোডের ১৮৬ ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বিষাক্ত খাবারে উৎপাদিত মাছ বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে কেরানীগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জ্যাকসি, শাক্তা ইউনিয়ন গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই খাইরুল আলম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রাসেল উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহীমকে সরাসরি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।